সিংড়ায় খাস পুকুর দখল ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সিংড়ায় খাস পুকুর দখল ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

নাটোরের সিংড়ায় খাস পুকুর নিয়ে বিরোধের জেরে সাধারণ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের বেলতা গ্রামে এই ঘটনার প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে গ্রামের দুই শতাধিক নারী, পুরুষ ও কিশোর অংশ নেন। এ সময় সঠিক তদন্ত ছাড়াই পুলিশি হয়রানি ও গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের বেলতা গ্রামে ‘চার দিগন্ত’ নামে একটি ক্লাব গড়ে তোলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার, সাকিব, রেজা ও অনিকসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, এই ক্লাবের আড়ালে বিভিন্ন অপকর্ম চালানো হয়। গত ১ জুলাই সকাল ৯টার দিকে ওই ক্লাবের সদস্যরা গ্রামের দুটি খাস পুকুরে লাল পতাকা টাঙিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে সাধারণ গ্রামবাসী পুকুর থেকে লাল পতাকাটি খুলে এনে ক্লাবের আঙিনায় রেখে আসেন।

পরবর্তীতে ওই দিন বিকেলেই বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ এনে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই রাতেই ২০/২৫ জনের একদল পুলিশ বেলতা গ্রামে ঢুকে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান চালায় বলে জানার গ্রামবাসী।

গ্রাম্য প্রধান জমসেদ আলী জানান, বিগত ১০ বছর ধরে এই দুটি খাস পুকুর নিয়ে মামলা চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা সর্বসম্মতিক্রমে পুকুর দুটি থেকে প্রাপ্ত আয় মসজিদের উন্নয়ন, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি কবরস্থানের মাটি ভরাট ও মসজিদের উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনকল্যাণমূলক এই কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং পুকুর দুটি গ্রাস করতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হিরা বেগম, মিলন আলী মন্ডল ও জয়নাব খাতুন অভিযোগ করেন, “চার দিগন্ত” নামের ওই ক্লাবে নিয়মিত জুয়া খেলার আসর বসে। ক্লাবের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা এবং একটি পুকুর ক্লাবের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষ এই অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়াতেই এই মিথ্যা মামলার ফাঁদ পাতা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন ও তামিম হোসেন জানায়, গ্রামবাসী শুধু পুকুর থেকে লাল পতাকাটি এনে ক্লাবের আঙিনায় রেখে গিয়েছিল। গ্রামবাসীরা চলে যাওয়ার পর ক্লাবের লোকজন নিজেরাই তাদের আসবাবপত্র, ব্যানার ও ছবি ভাঙচুর ও ছেঁড়াফাড়া করে গ্রামবাসীর ওপর দোষ চাপানোর নাটক সাজায়।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দেব না। সরাসরি এসে বক্তব্য নেন, এভাবে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিতে আমি রাজি নই। থানায় মামলা করেছি, মামলার আর্জিতেই আমার যা বলার আছে। তারপরও যদি লিখতে চান, লিখে দেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় আনোয়ার নামে একজন মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই পুলিশ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই গ্রামে গিয়েছিল।