ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে একটি অসহায় পরিবারের খতিয়ানভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখল এবং ঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিনু আক্তার (৩৫) গত ৪ ডিসেম্বর চরভদ্রাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিনু আক্তার বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করলেও তাঁর বৃদ্ধা মা গ্রামের বাড়িতে একাই থাকেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী মোল্লা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় (৩ ডিসেম্বর) অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের খতিয়ান নং ২৩৩২ ও দাগ নং ৭৮৫২-এর জমিতে অভিযুক্তরা জোর করে হালচাষ শুরু করে। বিষয়টি দেখে বৃদ্ধা মা বাধা দিতে গেলে রামদা, চাইনিজ কোরাল, লোহার হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে বৃদ্ধা মাকে গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ৫.৫ ভরি স্বর্ণের চেইন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ ইউছুপ মোল্লা (৫৫), মোঃ আনছার মোল্লা (৫০), মোঃ রেজাউল মোল্লা (৩৫), মোঃ কাউছার মোল্লা (৩৮), নুরজাহান খাতুন (৪৫), মনিকা আক্তার (৩৫), সানজিদা আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির। অভিযোগে বলা হয়, তারা সবাই বাদুল্লা মাতুব্বারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।

মিনু আক্তার আরও দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগেও একই অভিযুক্তরা তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় চরভদ্রাসন থানায় মামলা হয়, যার জিআর নং ৯০/২০২৩ এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারিণী জানান, বর্তমানে তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি থানায় আবেদন করেছেন।

অভিযুক্ত আনসার মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে শয্যাশায়ী। এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার ছোট ভাই রেজাউল মোল্লা প্রায় ১৫ দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছে। অথচ তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। আসলে আমাদের সঙ্গে অভিযোগকারীদের জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই ঘটনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

.fb-background-color { background: #ffffff !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }