দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই
0 Shares
৮৩

দৃষ্টিহীন হয়েও আজান দিতেন নিয়মিত, শতবর্ষী মুয়াজ্জিনের বিদায়ে মানুষের ঢল

 

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও গভীর ধর্মানুরাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার দৃষ্টিহীন মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা। দড়ি ধরে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়ার জন্য এলাকায় তিনি ছিলেন সুপরিচিত। সেই আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই।

 

রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ১২০ বছর।

 

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান মোল্লা তার দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দৃষ্টি হারানোর ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন।

 

দেশে ফিরে নিজ গ্রামে প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই জমিটি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে ওয়াকফ করে দেন।

 

মসজিদ নির্মাণের পর থেকেই তিনি সেখানে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি না থাকায় বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য কঠিন। বাবার কষ্ট লাঘবে সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে তাতে দড়ি বেঁধে দেন।

 

এরপর থেকেই সেই দড়ি ধরে এবং লাঠির সাহায্যে পথ চিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন তিনি। প্রথম কয়েকদিন পরিবারের সদস্যরা তাকে পথটি চিনিয়ে দিলেও পরে আর কারও সহায়তা লাগেনি।

 

স্থানীয়রা জানান, বয়সের ভার ও দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও তার দৃঢ় মনোবল, ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন এবং মসজিদের প্রতি ভালোবাসা সবার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

চলনবিল নিউজ ২৪ ফেসবুক পেজ