# পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, রূপপুরের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বসছে আজ

- Link: https://chalanbillnews24.com/2026/04/28/paromanobiko-juge-prbesho-koroche-bangladesho-rupopurero-cull%e0%a6%bfte-iureni%e0%a7%9f%e0%a6%bemo-bosoche-aj/
- Published: ২০২৬-০৪-২৮T০৮:০১:৫৬+০৬:০০
- Author: চলনবিল নিউজ২৪ ডেস্ক

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করতে আরও একটি বড় মাইলফলক অর্জন করছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এর পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকবে। সবশেষে কয়েক মাস পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে । সময়ের চাকা ঘুরেছে প্রায় এক যুগ। এ সময়ে মহামারীর প্রভাব, যুদ্ধের ধকলসহ নানা চ্যালেঞ্জ এলেও থেমে থাকেনি প্রকল্পের অগ্রযাত্রা। দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দোরগোড়ায়। তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় কোর ক্যাচার। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প বা ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকতে সক্ষম। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কেন্দ্রটি ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত সচল থাকতে পারবে। রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। এবার প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড। দুই বছর আগেই বাংলাদেশ ১৬৮টি এমন বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে। ইউরেনিয়াম বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন করা হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ফুয়েলিং শুরু হলে এতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর আরও প্রায় ১৫ দিন লাগবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং এরপর প্রায় দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউরেনিয়াম সরবরাহের পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে এখন নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে নন-নিউক্লিয়ার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এ পর্যায়ের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ফুয়েল লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সক্ষমতা অর্জন করা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী আগস্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত।
